Blog
চিরশ্রী দেবনাথ

চিরশ্রী দেবনাথের দুটি কবিতা
কবিপত্নী শহরে স্মরণসভা, ব্যথাকাতরতা সেই স্মরণসভায় স্ত্রীদের যেতে নেই কেউ এসে বলবে কবি তার খুব কাছের ছিল, স্ত্রী জানেন না অথচ মেয়েটির সঙ্গে কবির বহু বিকেল কেটেছে যেসকল গোধূলি স্ত্রী পায়নি অন্য কেউ পেয়ে কবিতা লিখেছে অভিমান নয়, নিস্ফল ক্ষোভে শূন্য হয়ে যাবে বুক সভা থেকে ফিরতে ফিরতে স্ত্রী ভুলে যাবে মৃত্যুশোক … ধূসর শাড়িতে ফুটে উঠল যেন রঙিন কল্কা। বোধন কবি মারা গেছেন। তিনি বেঁচে উঠছেন। লোহা গলে গলে মিশে যাচ্ছে আগুনের সঙ্গে একমুঠো শিশির এখনো তার হাতের মুঠোয়, বাষ্প হচ্ছে না, প্রিয় মানুষের ছায়া নিয়ে টলটল করছে ছেড়ে যাওয়া পৃথিবীর মুখ একদিন সে ভালোবেসেছিল একদিন সে অপমান সয়েছিল একদিন সে চুপ হয়ে গিয়েছিল তারপরও যেতে পারেনি, সরাতে পারেনি নিঃশ্বাস কবি চলে যেতে যেতে না-লেখা শ্রেষ্ঠ কবিতাটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে দিচ্ছেন তাকে শীতের বনে তারা ছড়িয়ে পড়ছে ট্রাম লাইনের মতো, আর বিকল হৃদযন্ত্র শেষবার চুমু খাবার লোভে আটকে রাখছে ঘন বাতাস। |
Related Posts
ভুল স্বর্গ
গল্প - ভুল স্বর্গ
লেখক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গল্পপাঠ করছে - পলাশ দে
বেহাগ
গল্প- বেহাগ
লেখক - সৌভিক গুহ সরকার
গল্পপাঠ করছে - পলাশ দে
রন্ধনশালা
গল্প- রন্ধনশালা
লেখক - বাসুদেব দাশগুপ্ত
পাঠ করছে - পলাশ দে
সম্পাদকীয়
গত কয়েক বছরে কত শিল্পীকেই না হারালো বাংলা ভাষা। কতবার অনুতাপ করেছি আমরা। কতবার বিস্ময়ে হতচকিত হয়েছি। স্তব্ধ হয়েছি অবাধ স্মৃতিগুলির সৌধ হয়ে ওঠায়।
পল্লব গঙ্গোপাধ্যায়
"পাথরের ফুল" ---ধ্রুপদি অথচ স্বতন্ত্র এক নির্মাণ
একটা এলিজি বা শোক-গাথা বা শোক-কবিতা কেন লেখা হয়? অবদমিত শোকের ক্যাথারসিস? শিল্পশীলিত পথে অবরুদ্ধ বিষাদের শান্তায়ন? মৃত্যুর অনিবার্যতাকে মেনে নিয়ে এবং দুঃখবোধের সংপৃক্তিকে স্পর্শ করে অবশেষে প্রাণের উজ্জীবন? নাকি ব্যক্তিগত শোককে আশ্রয় করে বৃহত্তর এক সর্বজনীন দুঃখের আবহকে ছুঁতে চাওয়ার চেষ্টা করা? হয়তো এককথায় উত্তর হওয়া উচিত এলিজির উদ্দিষ্ট একসাথে সবগুলোই।
অবন্তিকা পাল
এলিজি
এত অহমিকা এত আয়োজন
হাহা চিৎকারে ওই ওরা যায়
মিছিল তো নয় সারি সারি মাথা
ক্ষমতার পায়ে সব অবনত
অর্ঘ্য রায়চৌধুরী
শঙ্খ ঘোষ : শ্রদ্ধাভাজনেষু
কে শেখাবে এরপর প্রান্তরে
দুলে ওঠা শষ্যের ভাষা
কে দেখাবে অন্ধকারের বুকে
অমিত চক্রবর্তী
সে এখন মৃত্যু নিয়ে নিরাপদ, নিশ্চিন্ত
ছবিটা পাঠিয়েছিল সে অ্যালবাম থেকে ছিঁড়ে—
চারদিকে তখন বরফের আস্তরণ, কথাগুলি
ঢাকা পড়ে যায় অসঙ্গতির মোহে। ফাঁক ফোকর থেকে
আমরা তখন দুরাশা কুড়িয়ে বেড়াই। কেঁপেছিল কি হাত তার
অরুণ কুমার দাঁ
ধূপের দীর্ঘশ্বাস
প'ড়ে আছে অক্ষর, তুমি নেই!
শব্দ খোঁজে তোমাকে
সারাদিন কেঁদে যাচ্ছে, শ্রাবণ মেঘ
বিদিশা সরকার
এলিজি
শুধু দূর ভাবি, কতদূর? কতদূর গেলে তবে
লেভেল ক্রসিঙে থামা দুরন্ত রাত
কোন সিগন্যালে থেমে গেছ, বাইরে জোনাকি রাত
দেবাশিস ঘোষ
দিদিমাকে
তোমার সর্বহারা কাঁথায় রেখেছ হিরের মতো দুঃখী আমাকে
বলেছ ব্যাঙের কথা বিধবার একটিই ধন,
কুমীর থেকে ফের মানুষ না হতে পারা নদের চাঁদ
এলা বসু
অবেলার ঘুম
একটা ভারী ও শীতল কালো পর্দা নেমে আসে
আমরা উঠে পড়ি সন্তর্পনে
এ ওর মুখের দিকে চাই